আবুল কালাম আজাদ :-রাজশাহীর বাগমারার দ্বীপপুর ইউনিয়নের বিলসুতি বিলে সম্মিলিত পদ্ধতিতে ধান ও মাছচাষ করে প্রায় দুই হাজার কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। বিল সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। অভাব-অনটনে থাকা কৃষক পরিবারের সংসারে এখন ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা।

সরজমিনে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের বিলসুতি বিলের সরকারী খাস জলাশয় ২০১৮ সালে ছয় বছরের জন্য লীজ নেন বিলসুতিবিল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি অমূল্য হাওদালার। এরপর ওই বিলের সমস্ত জমিতে সম্মিলিত পদ্ধতিতে মাছ ও ফসল চাষের সুবিধা পাচ্ছেএলাকার কৃষকরাও ।ওই বিলের মধ্যে থাকা তাদের মালিকানাধীন জমি মৎস্যচাষ প্রকল্পের আওতায় দিয়ে তারাও ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন।

তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্বীপপুর মৌজায় ২নং ‘বিলসুতি বিল মৎস্যচাষ প্রকল্প’ নামে ৩২৬ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ওই প্রকল্পের পক্ষ থেকে সমস্ত কৃষকদের জমিতে বিনা মূল্যে সেচ সুবিধা দিয়ে সম্মিলিত পদ্ধতিতে ধান ও মওসুমী ফসল চাষের সাথে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ শুরু করা হয়। জমিতে বিনা খরচে চাষাবাদের সুযোগ পাওয়ায় প্রথম তিন বছরেই প্রকল্পের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার কৃষকেরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হয়েছেন।

সম্মিলিত পদ্ধতিতে ধান ও মাছ চাষ প্রকল্প ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চলতি সাল থেকে আবারো তিন বছরের জন্য নতুনভাবে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে এবার প্রকল্পের সদস্য সংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুন বেড়েছে। লাভজনক এই প্রকল্পের সাথে এবার দ্বীপপুর গ্রামের প্রায় ৯০ ভাগ কৃষক পরিবারের পাশাপশি এলাকার কার্ডধারী মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও যুক্ত হয়েছেন।

দ্বীপপুর গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলী ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলীসহ একাধিক কৃষক এ প্রতিবেদককে জানান, বিলসুতি বিলের সমস্ত কৃষকদের জমিতে বিনামূল্যে সেচ দিয়ে এবং অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিয়ে আলু, পেঁয়াজ, ভূট্রা এবং বোরো ও আউশধান চাষের সাথে সম্মিলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করায় উভয় ক্ষেত্রেই তারা উপকৃত হচ্ছেন। বিলসুতিবিলে দ্বীপপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের ১০ বিঘা এবং জমির উদ্দিনের ৭ বিঘা জমি রয়েছে। সম্মিলিত পদ্ধতিতে ধান ও মাছ চাষ করে গত তিন বছরে ব্যাপক লাভ পেয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের মতো এলাকার অনেক কৃষক পরিবারের সংসারে বর্তমানে সুদিন ফিরে এসেছে। এছাড়া এলাকা কয়েকজন গরীব কৃষক এই প্রকল্পের লাভের অর্থ দিয়ে সম্প্রতি তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে পেরে নিশ্চিন্ত হয়েছেন এবং তারা এখন সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছেন।

প্রকল্পের পরিচালক ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান দুলাল বলেন, বিলসুতি বিলে যাদের মালিকানা জমি রয়েছে তাদের সমস্ত জমিতে বিনা মূল্যে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিলের মধ্যে মোট ৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য দুইটি স্যালোমেশিনও স্থানপন করা হয়েছে। এতে বিল এলাকার কৃষকেরা তাদের জমিতে কম খরচে ফসল উৎপাদনের পাশাপশি সম্মিলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করায় উভয় ক্ষেত্রেই উপকৃত হচ্ছেন।

বাগমারা উপজেলা জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, বিলসুতি বিলের কৃষকদের এই উদ্যোগ প্রসংশার দাবিদার। এই উদ্যোগ অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *