সারাদেশ

রাজনীতি

জাতীয়

স্বাস্থ্য

  • করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীও শনাক্ত হচ্ছে উল্লাপাড়ায়

    ডাঃ আমজাদ হোসেনঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগের প্রকোপও দেখা দিয়েছে। করোনা রোগীর পাশাপাশি শনাক্ত হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীও।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন পূর্নিমাগাতী ইউনিয়নের ঘিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা। ঢাকা থেকে গ্রামে আসার পরে তাঁর শরীরে জ্বর দেখা দেয়। সোমবার (৩০ আগস্ট) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের সংক্রমণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি দুজন পৌর শহরের কাওয়াক ও সদর ইউনিয়নের চালা গ্রামের বাসিন্দা। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তাঁরা বাসায় ফিরেছেন।

    স্থানীয় পৌর শহরের বাসিন্দা কায়ুম হোসেন জুয়েল বলেন, ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা পেতে মশা নিধন করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে মেয়র এস এম নজরুল ইসলাম কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ কার্যক্রম চোখে পড়ার মত। তিনি পৌরসভা এলাকার নাগরিকদের ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ডেঙ্গু ভেক্টরগন রোগ। এ রোগ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকা দরকার। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, নারিকেলের খোসা, বাসার টবে পানি জমতে না দেওয়া জরুরি। এখন ঢাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি। ঢাকা থেকে কেউ এলাকায় এলে মশারি ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি

ধর্ম

  • রাসূল (সাঃ) এর হাতের ইশারায় দ্বিখণ্ডিত চাঁদ

    ডাঃ আমজাদ হোসেনঃ আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর মোজেযার প্রকাশ হিসেবে তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় পূর্ণ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। অলৌকিক এ মোজেযার ঘটনাটি ঘটেছিল আরবি হিজরি সনের ১৪ জিলহজ তারিখে।

    আবু জাহলের নেতৃত্বে একদল মূর্তিপূজারী ও ইহুদি জানায় যে, মুহাম্মাদ (সা.) যে আল্লাহর রাসূল তা তারা মেনে নেবে যদি তিনি চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাতে পারেন। তখন রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করে আঙ্গুলের ইশারা করলে ওই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে।

    পবিত্র কোরআনের সূরা আল-কামারের প্রথম তিন আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে,

    اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانشَقَّ الْقَمَرُ
    ‘কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে’।

    وَإِن يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ
    ‘তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত জাদু’।

    وَكَذَّبُوا وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُّسْتَقِرٌّ
    ‘তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরীকৃত হয়’। (সূরা: আল কামার, আয়াত: ১-৩)

    ওই আরব মুশরিকরা এই মোজেজা অস্বীকার করে একে জাদু বলে অভিহিত করে। কিন্তু উপস্থিত ইহুদিরা চাঁদ দুই ভাগ হওয়ার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। কারণ, ওই ইহুদিরা তাওরাতে পড়েছিল যে হজরত মূসা (আ.) এর উত্তরসূরি হজরত ইউশা (আ.) এর জন্য মহান আল্লাহ চাঁদ ও সূর্যকে স্থির করে রেখেছিলেন।

    রাসূল (সা.) চাঁদকে এত স্পষ্টভাবে দুই টুকরা করেন যে ওই দুই টুকরার ব্যবধানের মধ্যে হেরা পর্বত দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু আবু জাহল বলে ওঠে, ‘তিনি নজরবন্দি করেছেন। যেসব লোক বিদেশে গেছে তারা ফিরে এসে সমর্থন জানালে তখন বুঝব।’ বিদেশ থেকে আসা লোকেরা দেশে ফিরে এসে এ ঘটনার সত্যতাকে সমর্থন করলেও আবু জাহল বলে, ‘তিনি গোটা পৃথিবীর সব লোককে নজরবন্দী করেছেন।’

    ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মালাবার রাজ্যের (বর্তমান কেরালা অঞ্চল) ততকালীন রাজা চক্রবর্তী ফারমাস (চেরামান পিরুমেল) আকাশে চাঁদ দুই টুকরো হয়ে যাওয়ার ওই অলৌকিক ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন। যখন তিনি জানতে পারেন যে আরব দেশে শেষ নবীর আবির্ভাব ঘটেছে ও রাসূল (সা.)-ই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছেন, তখন তিনি মক্কায় গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ভারতের ইতিহাস গ্রন্থ ‘তারিখে ফেরেশতা’য় ওই ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে। চেরামানের নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    মার্কিন মহাশূন্য গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারীদের মাধ্যমে তোলা ছবিতেও চাঁদের মধ্যে গভীর ফাটলের চিহ্ন বা দাগ দেখা গেছে এবং এ থেকে স্পষ্ট হয়, কোনো এক সময় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

    ভারতীয় রাজা যে ওই ঘটনা দেখেছিলেন তার লিখিত বিবরণের একটি প্রাচীন দলিল বর্তমানে লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ওই দলিলে ভারতীয় সেই রাজার ভ্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ওই রাজা ভারতে ফেরার পথে ইয়েমেনে মারা যান।

    ১৯৬৯ সালে এ্যাপোলো -১১ নামের একটি মার্কিন মহাকাশযানে মানুষ সর্বপ্রথম চাঁদে অবতরন করে। এর আগেও চাঁদ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার জন্য এ্যাপোলো-১০ নামের রকেট চাঁদে পাঠানো হয় চাঁদের সর্বাধিক ছবি তুলে আনার জন্য। ওই সময়ে চাঁদের যেই ছবি এলো, এতে দেখা যায় চাঁদের বুকচিরে একটি ফাঁটল বিদ্যমান। ফাঁটলটি লম্বায় ২০০ (কি:মি:) এর ও বেশি এবং চওড়ায় ৩ (কি:মি:)
    বিজ্ঞানীগণ এর নাম দিয়েছেন ‘হাইজিনাস রিলী’।

    চাঁদ দিখন্ডিত হওয়ার বিষয়টি সহিহ হাদিসেও রয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি এ সম্পর্কিত হাদিস শরিফকে মুতাওয়াতির বলেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/২৭৬)।

    নিম্নে কয়েকটি হাদিস শরিফ উদ্ধৃত করা হলো-

    (১) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমরা মিনায় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি চন্দ্রকে দিখন্ডিত করলেন এবং এক খন্ড পাহাড়ের পশ্চাতে চলে গেল ও এক খন্ড পাহাড়ের উপরে রইল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো। (সহীহ বুখারী শরিফ ১/৫৪৬; সহিহ মুসলিম শরিফ ২/৩৭৩)।

    (২) হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, মক্কা শরিফ বাসীরা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (নবুওয়্যাতের) কোনো নিদর্শন দেখতে চাইল। তখন রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ তায়ালা উনার হুকুমে চন্দ্রকে দিখন্ডিত করে দেখিয়ে দিলেন। তারা (সাহাবায়ের কেরাম ও কাফেররা) দেখতে পেল যে, চাঁদের দুই খন্ড হেরা পাহাড়ের দুই পার্শ্বে চলে গিয়েছে।

    সূত্র: সহিহ বুখারী শরিফ ১/৫৪৫; সহিহ মুসলিম শরিফ ২/৩৭৩; জামে তিরমিযী শরিফ ৩২৮৫; মুসনাদে আহমদ শরিফ ৩/১৬৫; দালাইলুন নুবুওয়াহ ২/২৬২-২৬৮; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৩৫৪, ৩৬১; ফাতহুল বারী ৭/২২১; আততাহরীর ওয়াত তানবীর ২৭/১৬৩; আদ্দুররুল মানসুর ৬/১৩২-১৩৪; তাফসীরে কুরতুবী ১৭/১২৫-১২৮; তাফসীরে মাযহারী ৯/১৩৫)।

    আমরা মুসলিম হিসেবে ইসলামকে বিশ্বাস করব কোরআন ও হাদিস অনুসারে। ইসলামের যেকোনো কথা আজকের কথিত বিজ্ঞান সমর্থন করুক বা না করুক এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। বিজ্ঞানের ওপরে নির্ভর করে ইসলামে বিশ্বাস করাটা আসলে একটা প্রতারণা ও মূর্খতা ছাড়া কিছু না, এক ধরণের ভন্ডামী।

    নিজেকে একজন মুসলিম দাবী করে, এদিকে ওদিকে বিজ্ঞানে সমর্থিত হলে ইসলামের কথা বিশ্বাস করে এমন ভন্ডকে ইংরেজীতে hypocrite বলে যেটার আরবি সমার্থক শব্দ হলো মুনাফেক। ইসলামের তথ্যমতে মুনাফেকের স্থান ৭ম জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে যেখানে কোনো কাফের ও প্রবেশ করবে না।

    মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ পাক; আপনি আমাদের সবাইকে সঠিক ঈমান অর্জন করার ক্ষমতা দিন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। আমিন